আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৫ মে- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই…
মেলবোর্ন, ১৫ মে- যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং–এর পদত্যাগকে ঘিরে। তার আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর এমন পরিস্থিতি লেবার পার্টিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর কোনো আস্থা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে সাম্প্রতিক নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির প্রধান কারণ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা হ্রাস।
৪৩ বছর বয়সী এই নেতা লিখেছেন, “এখন এটি পরিষ্কার যে আপনি আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।” একই সঙ্গে তিনি দলের এমপি ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রতি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে “গঠনমূলক বিতর্ক” শুরুর আহ্বান জানান।
যদিও স্ট্রিটিং আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবুও তার বক্তব্যকে স্টারমারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন হয়। তবে স্ট্রিটিংয়ের কাছে সেই সমর্থন রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবার এমপি জশ সাইমন্স নিজের সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম–এর পার্লামেন্টে ফিরে এসে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে জশ সাইমন্স লেখেন, “আমি আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদত্যাগ করছি। আমি চাই অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে ফিরে এসে দেশকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে নিতে পারেন।”
তার পদত্যাগের ফলে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরে অ্যান্ডি বার্নহামও নিশ্চিত করেন, তিনি দলের অনুমতি নিয়ে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
এদিকে, সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে অ্যাঞ্জেলা রেনার–এর নামও। আবাসন করসংক্রান্ত জটিলতায় আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও সম্প্রতি কর কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে লেবার পার্টির ভেতরে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে চারজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং ৮০ জনের বেশি এমপি স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে দাঁড়ানোর সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সংকটের মধ্যেও কিয়ার স্টারমার এখনই সরে দাঁড়াচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি দেশ পরিচালনায় মনোযোগী এবং পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।
স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জেমস মারে–কে নিয়োগ দিয়েছেন স্টারমার। একই সঙ্গে ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লুসি রিগবি–কে।
স্টারমার এক চিঠিতে স্ট্রিটিংকে লেখেন, “মন্ত্রিসভায় আপনাকে আর না পাওয়ায় আমি সত্যিই ব্যথিত। আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে হবে এবং গত নির্বাচনে ভোটাররা যে বিশৃঙ্খলা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।”
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী নাইজেল ফারাজ–সমর্থিত রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিন পার্টির কাছে বড় ব্যবধানে হারে লেবার পার্টি। পাশাপাশি ওয়েলস পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণও হারায় দলটি। এতে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
যদিও অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস–সহ লেবার পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এখনো স্টারমারের পাশে রয়েছেন। রিভস সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং অর্থনীতিও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au