বাংলাদেশ

সুদি ইউনুসের গোলামি চুক্তি, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত 

  • 3:13 pm - May 22, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৮৮ বার
সুদি ইউনুসের গোলামি চুক্তি, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২২ মে- ২০২৪ সালের আগস্টে মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফেলে দেওয়া হয় দেশবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে। সেই ষড়যন্ত্রের সামনের মুখ হয়ে এলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। আন্তর্জাতিক মহলে যিনি ‘সুদি ইউনুস’ নামে পরিচিত, সেই মানুষটি ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশকে ঠেলে দিলেন নতুন এক গোলামির দিকে।

প্রথম আঘাত এলো বাণিজ্য চুক্তির নামে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হলো, তাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। বরং শুল্ক ছাড়, কৃষি পণ্য আমদানি শিথিলকরণ, শ্রম আইনে বাইরের চাপ মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো। দেশীয় শিল্প রক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছাড়াই বাজার খুলে দেওয়া হলো বিদেশি পণ্যের জন্য। ফলে দেশীয় বস্ত্র, চামড়া, কৃষিপণ্যের উদ্যোক্তারা পড়লেন চরম সংকটে। এটা বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটা একপাক্ষিক গোলামির দলিল।

দ্বিতীয় আঘাত এলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নামে। প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়ায় বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, যৌথ মহড়া, তথ্য বিনিময়—সবকিছুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলো। স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হলো। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণ হবে ওয়াশিংটনের টেবিলে—এই চুক্তি তারই দলিল।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক সূত্রে উঠে এসেছে, ইউনুস প্রশাসনের সময় সেন্টমার্টিনে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বীপটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব যে টেবিলে উঠেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি। সেন্টমার্টিন শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, মৎস্যসম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার অংশ। এখানে বিদেশি ঘাঁটি মানে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানো।

এর পাশাপাশি শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালের সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, জাতীয়তাবাদী চেতনা—সবকিছুই প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। যে সংবিধান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তের বিনিময়ে রচিত হয়েছিল, সেই সংবিধানকে দুর্বল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়েছিল। মেগা প্রকল্প, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবই ছিল দেশের মানুষের টাকায়, দেশের সিদ্ধান্তে। বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে না পড়ে নিজস্ব সক্ষমতায় উন্নয়ন হচ্ছিল। সেই ধারা ভেঙে দিয়ে ইউনুস প্রশাসন দেশকে আবার ঋণ, শর্ত আর বিদেশি হস্তক্ষেপের চক্রে ফেলে দিল।

এই সময়ে দেশজুড়ে মব ভায়োলেন্স, লুটপাট, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর আঘাত, শিল্পী-সাংবাদিক-শিক্ষকদের ওপর দমন নেমে এলো। রাষ্ট্রের কাজ ছিল নাগরিককে রক্ষা করা, কিন্তু রাষ্ট্রই হয়ে উঠল ভয়ের উৎস। প্রশাসনিক অচলাবস্থায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি সব ভেঙে পড়ল। শিশুরা টিকা পেল না, শিল্পীরা মঞ্চ পেল না, কৃষক ফসলের দাম পেল না।

এসব কিছুই আকস্মিক নয়। এটা ছিল পরিকল্পিত। দেশবিরোধী চক্র, বিদেশি লবি আর ক্ষমতালোভী একটি গোষ্ঠী মিলে বাংলাদেশকে দুর্বল করার নকশা করেছে। আর সেই নকশার বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করেছেন সুদি ইউনুস। তার মধ্যে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম নেই। যিনি দেশের মানুষের রক্ত চুষে সুদ ব্যবসা করে ধনী হয়েছেন, তিনি কী করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন?

ইতিহাস সাক্ষী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন লড়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। তার কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক মুক্তিতে রূপ দিতে চেয়েছেন। সেই ধারাকে ভেঙে দিয়ে দেশকে আবার পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রের কাজ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু যখন রাষ্ট্র নিজেই গোলামির চুক্তি সই করে, বিদেশি ঘাঁটির কথা ভাবে, সংবিধান বদলের খেলায় মাতে, তখন তাকে রাষ্ট্র বলা যায় না। সেটা হয়ে যায় দখলদার বাহিনীর স্থানীয় কার্যালয়।

আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে গোলামির চুক্তি মেনে নেওয়ার চাপ। এই সময়ে নীরব থাকা মানে অপরাধের শরিক হওয়া।

আমরা যেন ভুলে না যাই—সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের, সংবিধান ১৯৭২ আমাদের, আর স্বাধীনতা আমাদের রক্তে কেনা। যারা এগুলো বিক্রি করতে চায়, তারা দেশের বন্ধু নয়, তারা দেশের দুশমন।

 

লেখকঃ সরদার সেলিম রেজা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র।

এই শাখার আরও খবর

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au