বাংলাদেশ

সুদি ইউনুসের গোলামি চুক্তি, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত 

  • 3:13 pm - May 22, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪২ বার
সুদি ইউনুসের গোলামি চুক্তি, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২২ মে- ২০২৪ সালের আগস্টে মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফেলে দেওয়া হয় দেশবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে। সেই ষড়যন্ত্রের সামনের মুখ হয়ে এলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। আন্তর্জাতিক মহলে যিনি ‘সুদি ইউনুস’ নামে পরিচিত, সেই মানুষটি ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশকে ঠেলে দিলেন নতুন এক গোলামির দিকে।

প্রথম আঘাত এলো বাণিজ্য চুক্তির নামে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হলো, তাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। বরং শুল্ক ছাড়, কৃষি পণ্য আমদানি শিথিলকরণ, শ্রম আইনে বাইরের চাপ মেনে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো। দেশীয় শিল্প রক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছাড়াই বাজার খুলে দেওয়া হলো বিদেশি পণ্যের জন্য। ফলে দেশীয় বস্ত্র, চামড়া, কৃষিপণ্যের উদ্যোক্তারা পড়লেন চরম সংকটে। এটা বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটা একপাক্ষিক গোলামির দলিল।

দ্বিতীয় আঘাত এলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নামে। প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়ায় বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, যৌথ মহড়া, তথ্য বিনিময়—সবকিছুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলো। স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হলো। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণ হবে ওয়াশিংটনের টেবিলে—এই চুক্তি তারই দলিল।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক সূত্রে উঠে এসেছে, ইউনুস প্রশাসনের সময় সেন্টমার্টিনে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বীপটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব যে টেবিলে উঠেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি। সেন্টমার্টিন শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, মৎস্যসম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার অংশ। এখানে বিদেশি ঘাঁটি মানে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানো।

এর পাশাপাশি শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালের সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, জাতীয়তাবাদী চেতনা—সবকিছুই প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। যে সংবিধান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তের বিনিময়ে রচিত হয়েছিল, সেই সংবিধানকে দুর্বল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়েছিল। মেগা প্রকল্প, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবই ছিল দেশের মানুষের টাকায়, দেশের সিদ্ধান্তে। বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে না পড়ে নিজস্ব সক্ষমতায় উন্নয়ন হচ্ছিল। সেই ধারা ভেঙে দিয়ে ইউনুস প্রশাসন দেশকে আবার ঋণ, শর্ত আর বিদেশি হস্তক্ষেপের চক্রে ফেলে দিল।

এই সময়ে দেশজুড়ে মব ভায়োলেন্স, লুটপাট, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর আঘাত, শিল্পী-সাংবাদিক-শিক্ষকদের ওপর দমন নেমে এলো। রাষ্ট্রের কাজ ছিল নাগরিককে রক্ষা করা, কিন্তু রাষ্ট্রই হয়ে উঠল ভয়ের উৎস। প্রশাসনিক অচলাবস্থায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি সব ভেঙে পড়ল। শিশুরা টিকা পেল না, শিল্পীরা মঞ্চ পেল না, কৃষক ফসলের দাম পেল না।

এসব কিছুই আকস্মিক নয়। এটা ছিল পরিকল্পিত। দেশবিরোধী চক্র, বিদেশি লবি আর ক্ষমতালোভী একটি গোষ্ঠী মিলে বাংলাদেশকে দুর্বল করার নকশা করেছে। আর সেই নকশার বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করেছেন সুদি ইউনুস। তার মধ্যে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম নেই। যিনি দেশের মানুষের রক্ত চুষে সুদ ব্যবসা করে ধনী হয়েছেন, তিনি কী করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন?

ইতিহাস সাক্ষী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন লড়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। তার কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক মুক্তিতে রূপ দিতে চেয়েছেন। সেই ধারাকে ভেঙে দিয়ে দেশকে আবার পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রের কাজ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু যখন রাষ্ট্র নিজেই গোলামির চুক্তি সই করে, বিদেশি ঘাঁটির কথা ভাবে, সংবিধান বদলের খেলায় মাতে, তখন তাকে রাষ্ট্র বলা যায় না। সেটা হয়ে যায় দখলদার বাহিনীর স্থানীয় কার্যালয়।

আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে গোলামির চুক্তি মেনে নেওয়ার চাপ। এই সময়ে নীরব থাকা মানে অপরাধের শরিক হওয়া।

আমরা যেন ভুলে না যাই—সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের, সংবিধান ১৯৭২ আমাদের, আর স্বাধীনতা আমাদের রক্তে কেনা। যারা এগুলো বিক্রি করতে চায়, তারা দেশের বন্ধু নয়, তারা দেশের দুশমন।

 

লেখকঃ সরদার সেলিম রেজা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র।

এই শাখার আরও খবর

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au