ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য গ্রিনকার্ড পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার তথাকথিত ‘আইনি ফাঁকফোকর’ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) শুক্রবার এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন বা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিদেশি নাগরিক সাময়িক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান নীতিমালার কিছু দুর্বলতা ব্যবহার করে অনেকে গ্রিনকার্ডের আবেদন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাচ্ছেন। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সুযোগ সীমিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, “যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং গ্রিনকার্ড পেতে চান, তাঁদের আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এই নীতি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের আওতায় পরিচালিত করতে সহায়তা করবে।”
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মার্কিন অভিবাসন কাঠামো মূলত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাময়িক ভিসাধারীরা নির্ধারিত সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যান। তবে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করা হবে। অর্থাৎ, নতুন নিয়ম সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। একজন অভিবাসন কর্মকর্তা আবেদনকারীর কাগজপত্র, অবস্থান, ভিসার ধরন ও অতীত কার্যক্রম বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নতুন নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের আবেদন মূল্যায়নের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, অনুমতি ছাড়া চাকরি করা, তথ্য গোপন বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নির্ধারিত শর্ত মানা হয়েছে কি না।
তবে প্রশাসন কিছু ব্যতিক্রমও রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত কিছু ভিসা ক্যাটাগরি। এই ধরনের ভিসাধারীরা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে অবস্থান করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেন। তবে ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের ভিসাও গ্রিনকার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নীতির কারণে বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা সামাজিক অস্থিরতায় ভোগা দেশগুলোর নাগরিকেরা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারেন।
শরণার্থী ও অভিবাসী সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা এইচআইএএস বলেছে, এই নীতির ফলে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী ও শিশু এবং ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কারণ, তাঁদেরও গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করছে। এর আগে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো অস্থায়ী ভিসাধারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাঁরা কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা পারিবারিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au