ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত নতুন বাজেট ও কর সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। মেলবোর্নে ভিক্টোরিয়ান লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আবাসন বাজারে তরুণদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই সরকার কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি ঘোষিত ফেডারেল বাজেটে ‘নেগেটিভ গিয়ারিং’ এবং মূলধনী মুনাফা কর বা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (সিজিটি) ছাড়ের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে আলবানিজ সরকার। এরপর থেকেই রাজনৈতিক বিরোধী দল, ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত কর ছাড়ের সুবিধা নিয়ে সাধারণ তরুণ ক্রেতাদের চেয়ে বেশি দর হাঁকাতে পারছেন। এতে আবাসন বাজারে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
আলবানিজ বলেন, “যারা নিজের পরিশ্রমের অর্থে বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমান ব্যবস্থা ন্যায্য নয়। আমরা সহজ পথ বেছে নিইনি, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, একটি “ভাঙা ব্যবস্থা” দেখে সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না।
নতুন সিজিটি সংস্কারের আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ৫০ শতাংশ কর ছাড় বাতিল করে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত নতুন মডেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এতে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ করহার নির্ধারণ করা হবে। তবে নতুন নির্মিত বাড়ির মালিকদের জন্য পুরোনো সুবিধা বহাল থাকবে।
এই কর পরিবর্তন শুধু আবাসন নয়, শেয়ার ও ব্যবসা বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এর তীব্র বিরোধিতা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে এআই-নির্ভর প্রচারণাও শুরু হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকার ব্যবসায়িক মুনাফার ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
অন্যদিকে বিরোধী লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর লেবার সরকারের বাজেটকে “ভয়াবহ” ও “বিষাক্ত” আখ্যা দিয়েছেন। একই দিনে মেলবোর্নে দলের সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বাজেট তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের সুযোগ সীমিত করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।
এছাড়া ভবিষ্যতের পারিবারিক ট্রাস্টের ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা একে “ডেথ ট্যাক্স” বলে আখ্যা দিলেও সরকার এটিকে বিরোধীদের “ভয়ভীতি সৃষ্টির প্রচারণা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তবে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিছু ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এসব কর সংস্কার আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au