কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী…
মেলবোর্ন, ১২ জুন: অপেক্ষার অবসান। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন, আবেগ ও উন্মাদনার মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ – মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে এবং ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেন ছিল সংস্কৃতি, সংগীত ও ক্রীড়ার এক অনন্য মিলনমেলা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম রঙ, আলো ও সংগীতের মোহনীয় আবহে পরিণত হয় এক বিশাল উৎসব মঞ্চে। হাজারো শিল্পীর পরিবেশনায় উঠে আসে মেক্সিকোর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং লাতিন আমেরিকার প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্বখ্যাত শিল্পী শাকিরার পরিবেশনা দর্শকদের উচ্ছ্বাসকে পৌঁছে দেয় অন্য উচ্চতায়।
তবে উদ্বোধনী আয়োজনের সব আলো দ্রুতই চলে যায় সবুজ ঘাসের মাঠে, যেখানে শুরু হয় বিশ্বকাপের প্রথম লড়াই। স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্যালারিজুড়ে সমর্থকদের গর্জন, জাতীয় পতাকার ঢেউ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ যেন ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দেয় – বিশ্বকাপ ফিরে এসেছে।
ম্যাচের মাত্র নবম মিনিটে জুলিয়ান কুইনোনেসের গোল বিশ্বকাপের প্রথম উল্লাস এনে দেয় মেক্সিকো সমর্থকদের। সেই গোল শুধু ম্যাচের স্কোরলাইনই বদলায়নি, বরং তাকে স্থান করে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায়। পরবর্তীতে রাউল হিমেনেজের আরেকটি গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

স্বাগতিক মেক্সিকোর দাপুটে জয় দিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ যাত্রা।
তবে ম্যাচটি ছিল না শুধুই ফুটবলীয় সৌন্দর্যের প্রদর্শনী। উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ম্যাচে দেখা যায় তিনটি লাল কার্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই খেলোয়াড় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, আর শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর একজন খেলোয়াড়ও। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন নাটকীয়তা অনেক দিন দেখা যায়নি।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার লড়াই যেন ফুটবলের আরেকটি ভিন্ন গল্প লিখেছে। পিছিয়ে পড়েও কীভাবে একটি দল নিজেদের মানসিক শক্তি ও কৌশলগত দক্ষতায় ম্যাচে ফিরে আসতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় চেকিয়া। কিন্তু হাল ছাড়েনি এশিয়ার প্রতিনিধিরা। মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বমের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যাচে ফিরে আসে কোরিয়া। পরে বদলি খেলোয়াড় ওহ হিয়ন-গিউ জয়সূচক গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন দলকে। বিশ্বকাপের প্রথম কামব্যাক জয়ের কৃতিত্বও এখন দক্ষিণ কোরিয়ার।

পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে জয়ের হাসি দক্ষিণ কোরিয়ার।
প্রথম দিনের খেলা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে এবারের বিশ্বকাপ শুধু বড় নয়, আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর জন্যও সুযোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ফুটবল শক্তিগুলোর সামনে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের অভিযান ইতিবাচকভাবে শুরু করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়ার জন্য সামনে রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় একটি ম্যাচ কোনো দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে না, তবে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই ফুটবলপ্রেমীরা পেয়েছেন ইতিহাস, আবেগ, নাটকীয়তা, লাল কার্ড, কামব্যাক এবং অসাধারণ গোলের সমাহার। আর সেটিই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী এক মাস বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পর্দা উঠেছে। এখন অপেক্ষা নতুন নায়ক, নতুন গল্প এবং নতুন ইতিহাসের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au