কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী…
মেলবোর্ন, ১২ জুন- মেক্সিকোতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ চলাকালে রাজধানী মেক্সিকো সিটির বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের সময় বানোর্তে স্টেডিয়ামের আশপাশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয় এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংকট উপেক্ষার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সংগঠন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মেক্সিকোতে মাদকচক্র-সম্পর্কিত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষক সংগঠন ‘কোঅর্ডিনাদোরা নাসিওনাল দে ত্রাবাহাদোরেস দে লা এদুকাসিওন’-এর (সিএনটিই) সদস্যরা শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন।
প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া কর্মসূচি পরে সহিংস রূপ নেয়। মেক্সিকো সিটির সিটিজেন সিকিউরিটি সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারীর ভিড় থেকে মুখোশধারী প্রায় ২০০ ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে, পুলিশের দিকে ট্রাফিক কোন, ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, কিছু স্থানে পেট্রোলবোমাও ছোড়া হয়। এ সময় কয়েকটি রাস্তার অবকাঠামোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ ও অশ্বারোহী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিশ্বকাপের বিরোধিতাকারীরা দাবি করেন, দেশটিতে বর্তমানে ১ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, অথচ সরকার সেই সংকট সমাধানের পরিবর্তে বিশ্বকাপ আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা লিফলেট বিতরণ করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরেন এবং সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে দাঙ্গার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন, আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কিংবা টিকিটবিহীন সমর্থকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে মেক্সিকোর নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম-এর নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও মেক্সিকো সিটি প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।
ওমর হারফুচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব, সংযম ও সাহসিকতার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং হাজারো দর্শক নিরাপদে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করতে পেরেছেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে মাঠের ভেতরে ফুটবল উন্মাদনা থাকলেও মাঠের বাইরে সহিংস বিক্ষোভ মেক্সিকোর সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au