হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে: অস্ট্রেলীয় এমপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী…
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই- থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কয়েকজন এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক পথচারী ভবনটিতে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালান।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটি থেকে মুহূর্তের মধ্যে বিশাল অগ্নিগোলক বের হয়ে আসে। আতঙ্কিত মানুষ আগুনের মধ্য দিয়েই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ চিৎকার করছেন, কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। কয়েকজনের শরীরে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। আহত ৬০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। থাইরথ জানিয়েছে, এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর বারর ভেতরে দেখা যায়, আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। পুরো ভবনজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগে বারে একজন সংগীতশিল্পী গান পরিবেশন করছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে ভবনের প্রধান বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডে আগুন লাগে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত ধোঁয়া ও আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ বের হওয়ার পথ না পেয়ে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান এবং ধোঁয়া থেকে বাঁচতে টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাতুচাক এলাকার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্র ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের ওই বারে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলের বাইরে সারিবদ্ধভাবে মরদেহের ব্যাগ রাখা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে হয়েছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া এক গাড়িচালক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি নিজের গাড়ি থেকে নেমে জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুজনকে নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করেন। তাঁর এই সাহসী উদ্যোগে কয়েকজনের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au