হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে: অস্ট্রেলীয় এমপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী…
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই- ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গত মে ও জুন মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে এবং এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা। তারা আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত মৃত্যুর হারসংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই হিসাব নির্ধারণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু যুক্তরাজ্য নয়, গত মে ও জুন মাসে পুরো ইউরোপই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে। জুনের শেষ দিকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত ইউরোমোমো নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। ফলে প্রবীণদের জন্য চরম তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল দুটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়। এ সময় ইংল্যান্ডে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুন মাসে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে মাসভিত্তিক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন দলের বিজ্ঞানবিষয়ক ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, বছরের এত শুরুর দিকে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জন্যও বিরল একটি ঘটনা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকের পাশাপাশি হৃদ্রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বেড়ে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বয়স্ক ও আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে বলেন, বছরের এই সময়ে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর মতে, তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া এত বড় সংখ্যক মৃত্যুর অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তন না হলে জুনের শেষ দিকের এই তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au