হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে: অস্ট্রেলীয় এমপি
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী…
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই- রাজধানী ঢাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়, কোথাও কোথাও দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।
সকালে ঘর থেকে বের হয়েই দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। অল্পসংখ্যক যানবাহন চললেও কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। তেজগাঁও ও মগবাজার এলাকায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ না হলেও ধীরগতিতে পরিচালিত হয়। ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে পৌঁছায়।
বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ধানমন্ডি-২৭, নিউমার্কেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, গ্রিন রোড, মতিঝিল, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুরো এলাকায় কোমরসমান পানি জমেছে। সেই সঙ্গে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না।
আরামবাগ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, বঙ্গভবন, গুলিস্তান, সূত্রাপুর, এলিফ্যান্ট রোড, মালিবাগ ও খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। অনেক দোকান ও শোরুমে পানি ঢুকে পড়লে ব্যবসায়ীদের বালতি দিয়ে পানি সেচতে দেখা যায়।
মতিঝিলের রিকশাচালক মোতালেব হোসেন বলেন, এত বেশি পানি যে রিকশা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি রিকশার গদি পর্যন্ত উঠে গেছে।
মধুবাগ, পীরেরবাগ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও রিকশা পাওয়া যায়নি। যেসব রিকশা পাওয়া গেছে, সেগুলোতে স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হয়েছে।
পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় পাইপ বসানো হলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেকের অভিযোগ, ড্রেন ও নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানি নামতে পারছে না।
মিরপুরের পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায়ও জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। পানি জমে যাওয়ায় কয়েকটি মেট্রোরেল স্টেশনের লিফট ও এস্কেলেটর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কালশী মোড়ে বুকসমান পানি জমে এবং কাজীপাড়া থেকে পল্লবী পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি পানির মধ্যে বিকল হয়ে পড়ে।
এদিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় একটি বড় গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে কেউ আহত না হলেও বাসটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মধুবাগের কয়েকজন বাসিন্দা নিজেরাই ড্রেনের মুখে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করে পানি নামানোর উদ্যোগ নেন। পরে ধীরে ধীরে এলাকার পানি কমতে শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হলে এত বড় জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না।
টানা বৃষ্টির কারণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচে, বনানী, খিলক্ষেত এবং নয়াপল্টন এলাকায়ও ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
গুলশান লেকের পানি উপচে গুলশান-শাহজাদপুর সংযোগ সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি কমতে দেরি হলে সড়কে ভাঙন দেখা দিতে পারে।
জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠন রোববার ছুটি ঘোষণা করে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ক্লাস ও চলমান পরীক্ষা স্থগিত রাখে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অঞ্চলভিত্তিক কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে। দুই সিটির প্রশাসকেরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, কমলাপুরে দুটি এবং ধোলাইখালে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প চালিয়ে পানি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শহীদ উদ্দিন বলেন, রাজধানীর বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা বহু পুরোনো এবং আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন না করা হলে ভবিষ্যতেও ভারী বৃষ্টিতে একই ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au