সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর বাড়িতে লুটপাটের পর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বাড়ির মালিকের পরিবার। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান লাভলু কাজী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর বাড়িটি পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে একদল লোক বুলডোজার দিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে ফেলে। পরে ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাভলু কাজীর স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী দাবি করেন, হামলাকারীরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় এবং প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ছয় কক্ষের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়। তার অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা ও তাদের অনুসারীরা জড়িত।
এদিকে (পটুয়াখালী-১) আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং বাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তার বা দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, বাড়িটি যে জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত নন। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান বলেন, বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।