বাংলাদেশ

বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বাংলাদেশে নতুন অর্ডার স্থগিত পোলিশ পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপির

  • 7:03 pm - August 03, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩০ বার
৪ কোটি ডলারের বকেয়া বিরোধে বাংলাদেশ থেকে নতুন অর্ডার বন্ধ করল এলপিপি। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: পোল্যান্ডভিত্তিক শীর্ষ পোশাক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এলপিপি (এলপিপি এসএ) বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের সঙ্গে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বকেয়া অর্থ পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশ থেকে নতুন পোশাকের অর্ডার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আপাতত বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়া এবং নতুন পণ্যের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে।

৩০ জুলাই বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, তারা ভবিষ্যৎ সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদনের জন্য অন্যান্য দেশকেও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে রাশিয়ার খুচরা বিক্রেতা এফইএস রিটেইল-এর জন্য সরবরাহ করা পোশাকের মূল্য পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউস এফইএস রিটেইলের জন্য পোশাক সরবরাহ করলেও প্রায় ৪ কোটি ডলার বকেয়া অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি। এই অর্থ আদায়ের দাবিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ায় ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে এলপিপি তাদের অর্ডার ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে পরিচালনা করতে শুরু করে। প্রথম দিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও প্রায় দেড় বছর আগে থেকে অর্থ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে এলপিপি জানায়, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, যা নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলপিপি আগে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাক সংগ্রহ করত। ফলে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অর্ডার স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবে কি না, সেটি এলপিপির নিজস্ব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তবে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাওনা অর্থ পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এলপিপিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ফোরাম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, যেসব ক্রেতা সময়মতো মূল্য পরিশোধ করে না, তাদের ছাড়া শিল্প খাত আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। ইতোমধ্যে এই বিরোধের কারণে কয়েকটি কারখানা আর্থিক সংকটে পড়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, বছরে ৭০ কোটি ডলারের বেশি পোশাক সংগ্রহকারী এমন একজন বড় ক্রেতাকে হারাতে তারা চান না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর স্বার্থও সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

তিনি জানান, একপর্যায়ে এলপিপি বকেয়া অর্থ ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এত বড় ছাড় মেনে নিলে কোনো রপ্তানিকারক টিকে থাকতে পারবে না।

আব্দুল হামিদ বলেন, এলপিপির নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়ার ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠিয়েছিল। গত দেড় বছর ধরে চিঠি ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওনা অর্থ চাওয়া হলেও শুধু আশ্বাস মিলেছে, কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে রপ্তানিকারকরা আইনি পদক্ষেপ নেন। এলপিপি মামলা প্রত্যাহারের শর্তে আলোচনায় বসতে চাইলেও এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য সমাধান না পাওয়ায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি।

এদিকে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এলপিপির কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ই-মেইল পাঠালেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হেজাজ সোয়েটার্স লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার ক্রেতার জন্য প্রায় ৪৯ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক তৈরি করেছিল। পরে বায়িং হাউস থেকে জানানো হয়, ওই পণ্যের অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত। গত এক বছর ধরে পণ্যগুলো গুদামেই পড়ে আছে। কাঁচামাল ও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হলেও ক্ষতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

আরেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শ্রাবণী নিটওয়্যার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এছাড়া আরও ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এখনও গুদামে রয়েছে। এসব পণ্যের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি।

বেশ কয়েকজন রপ্তানিকারকের ধারণা, বকেয়া অর্থ নিয়ে চলমান বিরোধে চাপ সৃষ্টি করতেই এলপিপি নতুন অর্ডার স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তাদের মতে, প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনও পোশাক উৎপাদনের জন্য একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য উৎস, তাই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই এই বিরোধের সমাধান হতে পারে।

এই শাখার আরও খবর

বেরোবিতে কেন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ছাত্রদল-শিবির

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবিরের আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের…

ঢাকায় মাদ্রাসার বাথরুমে মিলল শিক্ষার্থীর লাশ

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ঢাকার কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে নাঈম ইসলাম শেখ (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল…

জুলাইয়ে রাজনৈতিক ও মব সহিংসতায় নিহত ২৩,নারী-শিশুসহ আহত ৪৭৩

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: চলতি বছরের জুলাই মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি এবং শ্রমিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক…

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের…

অবসরের পরও লাভবান রাহানে, বিসিসিআইয়ের সর্বোচ্চ পেনশন পাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না অজিঙ্কা রাহানের। বোর্ডের পেনশন নীতিমালার আওতায়…

জি-স্কপের নতুন যুগ্ম সমন্বয়ক বাচ্চু মিয়া ও আসাদুজ্জামান রিপন

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)-এর নতুন যুগ্ম…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au