শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং ইউরোপের বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকে বসছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে কয়েক হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশ করেন। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জনকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুরুতে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও পরে তা আরও বেড়েছে।
এদিকে সীমান্ত অতিক্রমের এই ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্পেনের সীমান্ত এলাকায় ৭২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া মরক্কোর সীমান্ত এলাকাতেও ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংকটের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লিয়েন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে লেখা এক চিঠিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে ইউরোপের ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তগুলো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
চিঠিতে উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপের বহিরাগত সীমান্ত রক্ষা করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি, প্রয়োজন অনুযায়ী দৃশ্যমান নিরাপত্তা বাধা নির্মাণ এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সীমান্ত সংকটকে কেন্দ্র করে শেনজেন চুক্তি নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে তাদের শেনজেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও কয়েকটি সরকার ভুল তথ্য, রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা বিভ্রান্তির কারণে স্পেনকে অযৌক্তিকভাবে সমালোচনা করছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সেউতা শেনজেন এলাকার অংশ নয়।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় পাঁচটি ক্ষেত্রে আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অভিবাসন প্রতিরোধ, বহিরাগত সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন, মানবপাচারকারী চক্র দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের সুযোগ নিচ্ছে। ওই রায়ের ফলে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ভবিষ্যতে জলপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমুদ্রসীমায় ইনফ্ল্যাটেবল ব্যারিয়ার বা বাতাসভর্তি ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেউতার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়টি এখন ইইউর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au