নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকে দাওয়াত দেননি এক কর্মী।ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকে আমন্ত্রণ না দেওয়ায় এক কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। পরে ওই কর্মীর মাকেই নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন তিনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
ঘটনাটি ঘটেছে চীনের হেনান প্রদেশের একটি ক্রেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চুই পেইজুন সম্প্রতি কর্মীদের এক অনুষ্ঠানে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। উদার বোনাস দেওয়ার জন্য তিনি আগে থেকেই ‘চীনের সবচেয়ে উদার বস’ হিসেবে পরিচিত।
চুই জানান, তিনি ওই কর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, বরের বৃদ্ধা মা অনুষ্ঠানে নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি কারখানার পাশেই একা বসে আছেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি কর্মীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে কর্মী জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই মাকে বিয়েতে আমন্ত্রণ জানাননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, মায়ের সাধারণ চেহারা ও পোশাক অতিথিদের সামনে তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হন চুই পেইজুন। তিনি কর্মীকে স্মরণ করিয়ে দেন, ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর ওই মা একাই কঠোর পরিশ্রম করে তাঁকে বড় করেছেন। এরপরই তিনি কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
পরবর্তীতে ওই কর্মী ক্ষমা চেয়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে চুই নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তাঁর ভাষ্য, “যে ব্যক্তি নিজের জন্মদাত্রী মাকে সম্মান করতে পারে না, তার জন্য আমার প্রতিষ্ঠানে কোনো জায়গা নেই।”

কর্মী বরখাস্ত হলেও বৃদ্ধ মায়ের আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চুই পেইজুন।ফাইল ছবি
তবে কর্মীকে বরখাস্ত করলেও তাঁর মায়ের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেন চুই। তিনি ওই নারীকে প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিকস বিভাগে চাকরি দেন। পাশাপাশি তাঁর বেতনও ছেলের সমপরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষ চুই পেইজুনের সিদ্ধান্তকে মানবিক ও নৈতিক বলে প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধহীন ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানে রাখা উচিত নয়।
অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত করা শ্রম আইনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের মতে, পেশাগত কর্মদক্ষতার বাইরে গিয়ে একজন নিয়োগকর্তার নৈতিক বিচারক হিসেবে ভূমিকা নেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।