বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের নৈতিক ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল গণমাধ্যমের সামনে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করছে। এ সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আন্দোলনটিকে পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ রেখে কোনোভাবেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উপযুক্ত সময় এলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়াবেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মামলার মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত। সম্ভাব্য সাজা বা আইনি প্রক্রিয়ার ভয় তাঁকে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের আগে অনুষ্ঠানটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকার জানিয়েছে, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করা কোনো মতামতের দায় বা সমর্থনও ভারত সরকারের নয় বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সূত্রঃ এএনআই