ফাইনালে মারামারি কাণ্ডে ফিফার শাস্তি নিয়ে মুখ খুললেন স্পেনের কোচ
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফার শাস্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার তিমুর ও সায়াফ্রুবেশি এলাকায় ভোতে কোশি নদী এবং লেন্দে খোলায় পাহাড়ি ঢল নেমে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়। তিব্বত থেকে নেমে আসা পানি, কাদা ও পাথরের স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নদীতীরবর্তী বসতি, সড়ক, সেতু ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটিতে অন্তত ৮৫ জন সেনা ও পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বন্যায় ১৯টি সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে। তবে নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ওপরে থাকায় রাসুয়া জেলার সায়াফ্রুবেশি ও তিমুর এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আহত অন্তত ৬৫ জনকে দুর্গত এলাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে স্বজনেরা আহতদের তালিকায় নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করছেন।

আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তে তলিয়ে গেছে গোটা এলাকা। ছবি: এএফপি
‘পানির স্রোত নয়, বিশাল কাদার ঢল নেমে এসেছিল’
বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আকস্মিক ঢল এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেকের পালানোর সুযোগও ছিল না।
রাসুয়া জেলার ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, তাঁর চোখের সামনে কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাদার স্রোতে তাঁর স্ত্রী ভেসে যান।
কেশব বলেন, তিনি কোনোভাবে ছাদে উঠতে সক্ষম হন। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে তাঁকে উদ্ধার করলেও তাঁর স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল বন্যার সময় রাসুয়া জেলার নিচের দিকে বিদুর এলাকায় একটি বাড়ির পাশে কাজ করছিলেন। তিনি পাঁচ ফুট গভীর একটি গর্ত খুঁড়ছিলেন। হঠাৎ পানি, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে এসে তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
কুমাল জানান, সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত গর্ত থেকে বের হয়ে পালাতে বলেছিলেন। তিনি দৌড় শুরু করার পর প্রবল স্রোত তাঁকে ভাসিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে আটকে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বাধা রয়ে গেছে। ফলে সেখানে আবারও বড় ধরনের বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, তিব্বতে ভূমিধসের কারণে ভোতে কোশি নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেই পানির চাপের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যুক্ত হয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে।
ভোতে কোশি নদী তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে মিশেছে। এর আগেও গত বছরের জুলাইয়ে নেপাল-চীন সীমান্তে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হন। বন্যায় নেপাল ও চীনকে যুক্ত করা একটি সেতু ভেসে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের বন্যার পেছনেও তিব্বতের একটি হিমবাহসংলগ্ন হ্রদের পানি নেমে আসার ঘটনা ভূমিকা রেখেছিল।

নেপালে আকস্মিক বন্যা। ছবিঃ সংগৃহীত
চীনের তিব্বতেও হতাহত
নেপালের পাশাপাশি সীমান্তের চীনা অংশেও বন্যায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং এলাকায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা কয়েকটি নদীর পানি এসব রাজ্যের নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষদেরও সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি সহায়তায় ১২ লাখ ডলার দিচ্ছে রেড ক্রস
বন্যার ভয়াবহতার মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন নেপালের জন্য জরুরি তহবিল ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি নেপাল রেড ক্রস সোসাইটির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এই অর্থ দিয়ে দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কাজ করবে নেপাল রেড ক্রস।
বিভিন্ন দেশের সহায়তার আশ্বাস
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান শোক প্রকাশ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের পাশে রয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে রাসুয়া ও নেপালের অন্যান্য এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনও নেপাল ও চীনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপার্নিকাস’ কর্মসূচি সক্রিয় করা হয়েছে।
নেপালজুড়ে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, প্রবল স্রোত এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলগুলো একযোগে কাজ করছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au