হুজ হু সম্মাননা পেলেন ববিতা, উৎসর্গ করলেন তরুণ প্রজন্মকে
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা এ বছর আন্তর্জাতিক ‘হুজ হু’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৮ এপ্রিল রাজধানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই কেন্দ্রীয় মন্দিরটি সোমবার (২০ এপ্রিল) অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুভ দ্বারোদঘাটন করা হয়।
নবনির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন চবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা আয়োজন করা হলেও স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হতো। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদানে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে এই মন্দির কমপ্লেক্স।
প্রাথমিকভাবে সীমানা প্রাচীর, রিটেনশন ওয়াল ও ভরাটের কাজ শেষে খোলা জায়গাতেই পূজা অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে প্রবাসী ব্যবসায়ী অদুল কান্তি চৌধুরীর আর্থিক সহায়তায় মূল মন্দির নির্মাণকাজ গতি পায়। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ এগিয়ে চলে এবং দীর্ঘ আট বছর পর তা বাস্তব রূপ পায়।
উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় বলেন, ‘জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি’-এই দর্শনকে ধারণ করে মন্দিরটি শুধু উপাসনালয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক চর্চা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। মন্দির কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী জানান, ভবিষ্যতে এখানে বৈদিক গ্রন্থাগার, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের অডিটোরিয়াম, ধ্যানকেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই তিনি এ উদ্যোগে যুক্ত হন। ভবিষ্যতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চবির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন ঘটাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. দেবাশিস পালিত, প্রফেসর ড. অলক পাল, প্রফেসর ড. দ্বৈপায়ন সিকদার, প্রফেসর ড. সজীব কুমার ঘোষ, প্রফেসর ড. অনুপম দাশ গুপ্তসহ আরও অনেকে।
শুভ দ্বারোদঘাটন উপলক্ষে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, শতকণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, সাধুসঙ্গ ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিকেলে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au