ভয়াবহ ঝড়ে টিনের চালাসহ আকাশে উড়ে গেলেন রিকশাচালক, উত্তর প্রদেশে প্রাণহানি ১১১
মেলবোর্ন, ১৫ মে- ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়, বজ্রপাত ও ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই বেরেলি জেলায় ঘটেছে অবিশ্বাস্য…
মেলবোর্ন, ১৫ মে- ইরানের যুদ্ধ ঘিরে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বিশেষ করে স্পেন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে ন্যাটো জোটের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে চীন সফরে থাকা অবস্থায় পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবি নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র যখন সামরিক অভিযান পরিচালনা করছিল, তখন ন্যাটোর কিছু মিত্র দেশ সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের আচরণকে তিনি “ভয়াবহ” ও “হতাশাজনক” বলে উল্লেখ করেন।
রুবিওর ভাষায়, “ন্যাটোকে আমি সমর্থন করতাম মূলত এজন্য যে, ইউরোপে আমাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেয় এই জোট। কিন্তু যদি সেই মিত্ররাই সংকটের সময় আমাদের সেই ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে ন্যাটোর উদ্দেশ্য কী?”
তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে তারা নিজেদের স্বার্থে মিত্র, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে চায় না। শুধুমাত্র ইউরোপকে রক্ষা করার জন্য যদি আমরা সেখানে থাকি, আর আমাদের জাতীয় স্বার্থে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিই না পাই, তাহলে এটি একতরফা সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায়।”
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধ চলাকালে স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। এমনকি পরে মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দেয় মাদ্রিদ। ইতালি ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইউরোপ নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এদিকে চীন সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা অবস্থায় মার্কো রুবিওর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ছবিতে তাকে ধূসর রঙের নাইকির ট্র্যাকস্যুট পরে দেখা যায়। অনেকেই পোশাকটির সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি পুরোনো ছবির মিল খুঁজে পান।
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সময় হেলিকপ্টারে হাতকড়া পরা অবস্থায় একই ধরনের পোশাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াং মজা করে লেখেন, “এয়ার ফোর্স ওয়ানে রুবিও ‘ভেনেজুয়েলা’ নাইকি টেক পরে আছেন!”
তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও এ নিয়ে হাস্যরসের সুরে বলেন, “মাদুরোই আমাকে নকল করেছে। আমি আগে এই পোশাক ব্যবহার করেছি। সে কবে কিনেছে জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু আরামদায়ক একটি পোশাক। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা ছিল না। আমি জানতামই না যে তখন ছবি তোলা হচ্ছে।”
কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকার বামপন্থি সরকারগুলোর কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনার অন্যতম সমর্থক ছিলেন তিনি। মার্কিন প্রশাসন মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগও এনেছে, যদিও তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au