শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট, কিংবদন্তি ব্যবসায়িক চিন্তাবিদ চার্লি মাঙ্গার এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস দীর্ঘদিন ধরেই সাফল্য, নেতৃত্ব, সম্পদ গঠন এবং ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করলেও তাঁদের দর্শনের মূল ভিত্তি একটাই, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আত্মশৃঙ্খলা, নিরবচ্ছিন্ন শেখার মানসিকতা এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণই টেকসই সাফল্যের চাবিকাঠি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন ব্যক্তিত্বের বক্তব্য কেবল অনুপ্রেরণামূলক উক্তি নয়, বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা, সফলতা এবং দীর্ঘ সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফল। ব্যবসা, চাকরি, বিনিয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত জীবন, সব ক্ষেত্রেই তাঁদের পরামর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন বাফেট দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলের জন্য পরিচিত। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় আজকের সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বহু বছর আগে একটি গাছ লাগিয়েছিলেন, সেই কারণেই আজ কেউ তার ছায়ায় বসতে পারছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শিক্ষা, দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে আজকের বিনিয়োগই ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় সুফল এনে দেয়।
ওয়ারেন বাফেট আরও মনে করেন, মানুষের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত নিজের ওপর। তাঁর ভাষায়, জ্ঞান, দক্ষতা এবং চরিত্র এমন সম্পদ, যা কোনো অর্থনৈতিক সংকট বা বাজারের ওঠানামা কেড়ে নিতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত ঝুঁকি আসে অজ্ঞতা থেকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে-এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চার্লি মাঙ্গার বিশ্বাস করতেন, প্রতিদিন সামান্য হলেও নতুন কিছু শেখার অভ্যাসই একজন মানুষকে অসাধারণ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময়ের চেয়ে দিনের শেষে একটু বেশি জ্ঞানী হওয়াই প্রকৃত উন্নতি।
চার্লি মাঙ্গার আরও বলেন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে পারা মেধাবী হওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানুষকে অহংকার পরিহার করে প্রশ্ন করতে, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে এবং নতুন ধারণা গ্রহণে উৎসাহ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করতেন, জটিল কৌশলের চেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর নীতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করাই দীর্ঘমেয়াদে বড় সাফল্য এনে দেয়।
মাইক্রোসফট-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস মনে করেন, সাফল্য অনেক সময় মানুষকে আত্মতুষ্ট করে তোলে। তাঁর ভাষায়, সাফল্য এমন এক শিক্ষক, যা অনেক মেধাবী মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে দেয় যে তারা আর কখনও ব্যর্থ হবে না। তাই তিনি সব সময় শেখার মানসিকতা ধরে রাখার ওপর জোর দেন।
বিল গেটসের মতে, সবচেয়ে অসন্তুষ্ট গ্রাহকরাই একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। কারণ সমালোচনার মধ্যেই উন্নতির সুযোগ লুকিয়ে থাকে। তিনি ব্যর্থতাকেও সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন এবং মনে করেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ক্ষমতাই ভবিষ্যতের বড় অর্জনের পথ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ারেন বাফেট, চার্লি মাঙ্গার এবং বিল গেটসের দর্শনের মধ্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে মিল রয়েছে। তাঁরা সবাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত শেখা, আত্মশৃঙ্খলা, বিনয়, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সততার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, প্রকৃত সাফল্য রাতারাতি আসে না; বরং বছরের পর বছর ধৈর্য, পরিশ্রম, জ্ঞানার্জন এবং সঠিক সিদ্ধান্তের সমন্বয়েই তা অর্জিত হয়।
ব্যবসা, বিনিয়োগ, নেতৃত্ব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে আগ্রহীদের জন্য এই তিন ব্যক্তিত্বের অভিজ্ঞতা আজও দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের মতে, সম্পদ অর্জনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের চরিত্র গঠন, জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো এবং এমন কাজ করা, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au