শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনাকে বরখাস্ত করেছেন। সোমবার এক সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। গত মাসে ইউক্রেন সরকারে বড় ধরনের রদবদলের পর এই পদক্ষেপ অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
স্টেফানিশিনার অপসারণ এমন এক সময়ে হলো, যখন রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সামরিক সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে কিয়েভ।
দায়িত্ব ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় ওলগা স্টেফানিশিনা জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজের পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন। স্টেফানিশিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ ইউক্রেনের জন্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে ওলগা স্টেফানিশিনা ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের জুলাই মাসে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে ইউক্রেনীয় কূটনৈতিক মহলের অনেকে মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কারণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশই মার্কিন অস্ত্র, সামরিক সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে ইউক্রেনের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা ওলগা স্টেফানিশিনার বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং ইউক্রেন সরকারও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্ত কেবল সরকারের সাম্প্রতিক পুনর্গঠনের অংশ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলেরও অংশ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জেলেনস্কি ঘোষণা করেননি, যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে কিয়েভ ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনে নতুন কূটনৈতিক নেতৃত্ব নিয়োগ দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au