অস্ট্রেলিয়ার সরকার দেশটির অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এনেছে। শ্রমবাজারে চাপ, বাড়ি ভাড়া এবং পরিকাঠামোর সংকটের প্রেক্ষাপটে অ্যালবেনি সরকার নতুন নীতিমালার মাধ্যমে অভিবাসনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে। সে লক্ষ্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের আওতায় বাড়ানো হচ্ছে বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম আয়ের সীমা, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি এবং কঠোর করা হচ্ছে দক্ষ অভিবাসনের যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন অর্থবছর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দক্ষ কর্মী-ভিসার জন্য বেতনসীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মূল দক্ষতা আয়সীমা (Core Skills Income Threshold) এবং অস্থায়ী দক্ষ অভিবাসন আয়সীমা (Temporary Skilled Migration Income Threshold) বাড়িয়ে ৭৩,১৫০ ডলার থেকে ৭৬,৫১৫ ডলার করা হয়েছে।
বিশেষায়িত দক্ষতা আয়সীমা (Specialist Skills Income Threshold) আরও বেশি বাড়িয়ে ১,৩৫,০০০ ডলার থেকে ১,৪১,২১০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তন ১ জুলাই থেকে জমা পড়া নতুন ভিসার আবেদনের ওপর প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত দক্ষতাভিত্তিক ভিসাগুলোর মধ্যে — ৪৮২ অস্থায়ী ভিসা, ১৮৬ নিয়োগকারী মনোনয়ন প্রকল্প, এবং ৪৯৪ আঞ্চলিক-কেন্দ্রিক ভিসা।
যেসব আবেদন ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বা যারা ইতোমধ্যে ভিসাধারী, তাদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে না। তবে নতুন কোনও নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই হালনাগাদ বেতনসীমা মানতে হবে — যা অবসর ভাতা (সুপারঅ্যানুয়েশন) বাদে নির্ধারিত।
সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্তটি গড় সাপ্তাহিক স্বাভাবিক উপার্জন (Average Weekly Ordinary Time Earnings) এর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশি কর্মীরা অস্ট্রেলিয়ান কর্মীদের সমান বেতন পান। তবে এতে কিছু শিল্প খাত, যেখানে বেতনসীমা তুলনামূলকভাবে নিচু, তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ বাড়ছে
শুধু দক্ষ কর্মীই নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও আসছে খরচের চাপ। সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও, শিক্ষার্থী ভিসার মূল আবেদন ফি ১,৬০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৩ সালেও আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছিল। ফলে এটি হবে পরপর দ্বিতীয় বছর শিক্ষার্থী ভিসা ফি বৃদ্ধির ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, এতে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হতে পারে, অথচ এই পরিবর্তন ভিসার অপব্যবহারকারীদের ঠেকাতে খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে।
মানবিক ভিসায় নতুন নির্দেশনা
মানবিক ও শরণার্থী ভিসার ক্ষেত্রেও নিয়ম আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি (Special Humanitarian Programme) ও নির্দিষ্ট শরণার্থী শ্রেণির আবেদনকারীদের আবেদনকারী প্রস্তাবপত্র (ফর্ম ৬৮১) এবং আবেদনপত্র (ফর্ম ৮৪২) একইসঙ্গে অনলাইনে ইম্মি অ্যাকাউন্ট (ImmiAccount)-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে — এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শেষ মুহূর্তে পদক্ষেপ না নিলে বিপদে পড়বে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো
এতসব পরিবর্তনের মাঝে, বিশেষজ্ঞরা এবং কর্তৃপক্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেছে — ১ জুলাইয়ের আগেই আবেদন জমা দিন, বর্তমান বেতন হার নিশ্চিত করুন, এবং শ্রমবাজার যাচাই পরীক্ষা (Labour Market Testing) শুরু করে দিন। না হলে অর্থবছরের শেষ দিকে আবেদন জমার ভিড় ও প্রসেসিং বিলম্বে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
সবমিলিয়ে, সরকারের এই উদ্যোগ অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনার একটি প্রচেষ্টা, যার প্রভাব পড়বে হাজার হাজার বিদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী ও দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।