অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম,ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহফুজ আলম। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণার পর রোববার রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় তিনি ‘এই এনসিপির’ অংশ হচ্ছেন না।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মাহফুজ আলম লেখেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় তার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন পথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াত–এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে তাকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। ঢাকার কোনো আসনে ওই জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলে জানান।
এর আগে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির জানান, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আট দলের সঙ্গে এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং নির্বাচনি সমঝোতায় সম্মত হয়েছেন। পরে রাতেই বাংলা মোটরে এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করতে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন থেকেই তারা জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল এবং ওই সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি দীর্ঘ সময় নীতিগত ও পরামর্শমূলকভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে এনসিপিকে একটি বিস্তৃত ‘জুলাই আম্ব্রেলা’ হিসেবে স্বতন্ত্র পথে দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ আলমের ভাষায়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক ধরনের শীতল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। তিনি মনে করেন, বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ ও জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সব ক্ষেত্রেই তিনি সেই অবস্থান ধরে রাখবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার একদিন আগে তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাহফুজ আলম। একই দিনে পদত্যাগ করেন আরেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এরপর তারা এনসিপিতে যোগ দেবেন নাকি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। আসিফ মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও মাহফুজ এতদিন নীরব ছিলেন।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসার আগেই এনসিপি ছাড়েন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাজনূভা জাবীন ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। এর আগের দিন জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে এনসিপির কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে চিঠিও দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম।